রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল ‘এসএমই বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রথমবারের মতো সাত দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এসএমই খাতের সহায়তায় সম্প্রতি বরাদ্দ দেয়া ৩০০ কোটি টাকা ১৫টি ব্যাংক ও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছিলেন, এ ৩০০ কোটি টাকা যদি ২ হাজার কোটি টাকা হয়, তাহলে এসএমই খাতের জন্য ভালো হবে। আমি ওনাকে কথা দিয়েছি, এ ৩০০ কোটি টাকার তহবিল ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো জানান, এসএমই খাতের ধারাবাহিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে এসএমই খাতকে অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলে উল্লেখ করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সামিম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এ খাত দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ অবদান রাখছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ এমএসএমই প্রতিষ্ঠান প্রায় তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এ বিশাল খাতকে আরো এগিয়ে নিতে হলে আরো পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা প্রায়ই ব্যাংকিং ও অর্থায়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। অথচ আমরা দেখেছি, কোল্যাটারাল-ফ্রি (জামানতবিহীন) ঋণ দিলে তাদের ঋণ পরিশোধের হার প্রায় ৯৯ শতাংশ। তাই এ খাতে আরো সহজ শর্তে অর্থায়ন বাড়ানো দরকার। শুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়; বরং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। একজনকে ২০ হাজার কোটি টাকা দেয়ার পরিবর্তে ১ কোটি করে ২০ হাজার উদ্যোক্তা তৈরি করলে দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে।
সামিম আহমেদ বলেন, ‘এসএমই খাতকে টেকসই রাখতে হলে আরো ইনোভেটিভ, ক্রিয়েটিভ ও দক্ষ হতে হবে। এ খাতই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এটি যত শক্তিশালী হবে, দেশ তত এগিয়ে যাবে।’
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এসএমই বৈশাখী মেলা আয়োজনের মূল লক্ষ্য ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
সভাপতির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এ মেলার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্য দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও তুলে ধরার সুযোগ পান, যা রফতানি সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।’
মেলায় দেড় শতাধিক স্টলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত এসএমই উদ্যোক্তারা হস্ত ও কারুশিল্প পণ্য, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হোমমেড খাবার ও স্ট্রিট ফুড, কৃত্রিম গহনা, চামড়াজাত পণ্য এবং সুগন্ধি ও লাইফস্টাইল পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করছেন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।